রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করে টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

কুমিল্লার চান্দিনায় গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুন (৬০) হত্যা ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু। পিবিআই বলছে, ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তদন্তের ধারাবাহিকতায় শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭) ও ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

পিবিআই কুমিল্লা জেলার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের কাঠের আলমিরা খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বাড়িতে অবস্থান করা ধানকাটা শ্রমিকরা নগদ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় হত্যা ও চুরির অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি ৩ মে দায়েরের পর থানা পুলিশ সাত দিন তদন্ত করে। পরে এটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় ১০ মে স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই কুমিল্লা জেলা। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলাম।

তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পিবিআই। এ সময় শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিরা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারিঘাটে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে তারা কুমিল্লায় এসে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

ঘটনার দিন রাতে কাজ না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তারা ছমিরন খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ড ও লুটের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন