বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল

এখন চলছে ভাদ্র মাস। ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম পচ্ছন্দের জায়গায় হলো সিলেটের শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলে সম্প্রতি ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই অন্যরকম ছিল। শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় চা বাগান এবং প্রকৃতির এক অপরুপ মহিমার রাজ্য।এ রাজ্যে একবার প্রবেশ করলে আপনার রাবার বাগানের সারি সারি গাছের ট্রেল ধরা রাস্তায় হারিয়ে যেতে মনে চাইবে। চা বাগানের উঁচু নিচু সারি সারি চা গাছগুলো এই বর্ষার জলে সতেজতা আর নির্মল ঠান্ডা বাতাস আপনার চোখ আর মন জুড়িয়ে আনবে।শ্রীমঙ্গলের নামকরণ ও ইতিহাস শুরু হয় মূলত হাইল হাওরের তীরে বসতি স্থাপনকারী দুই ভাই শ্রী দাস এবং মঙ্গল দাসের নাম থেকে। প্রাচীনকালে এটি এিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ১৮৯৭ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্প এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনে। তারপরও সৌন্দর্যের মুগ্ধতার টানে ছুটে আসেন নানা পর্যটক।ঢাকা থেকে ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল যেতে কমলাপুর রেলস্টেশন অথবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস শ্রেণীভেদে ভাড়া ২৪০-৮২০ টাকা। ইজিবাইক / সিএনজি/ জীপ / মাইক্রোবাস ৪০০/৫০০ নির্ভর করে যদি রিজার্ভ করেন। আরো অল্প বাজেটে চাইলে লোকাল অটোরিকশা ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন স্পটে যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী সাপেক্ষে।চা বাগান, রাবার বাগান ও ডিনস্টন সিমেট্রি
প্রকৃতির এক অপরুপ মহিমার সুদর্শন সারি সারি বাকা ত্যাড়া গাছের সুরু সুন্দর রাস্তায় হারিয়ে যেতে মনে চাইবে। সুন্দর সুন্দর ছবি তোলা, সৌন্দর্য উপভোগ করাই মুলত মৌলিক উদ্দেশ্য অনেক ভ্রমণকারীদের জন্য। চাবাগানের রাজ্য হলো শ্রীমঙ্গল।
চাবাগানের সবচেয়ে যা আকৃষ্ট তা হলো চা গাছের সুন্দর ঘ্রাণ, এ ঘ্রাণে যেন মন মাতোয়ারা হয়ে উঠবে যেকোনো ব্যাক্তির। এই জায়াগাগুলোর রয়েছে একটি ছোট ইতিহাস।
ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে চা চাষ ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশরা উর্বর মাটি এবং আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রথম বাণিজ্যিক চা চাষ শুরু করে।

বর্তমানে ফিনলে বা ডানকান ব্রাদার্সের মতো পুরোনো বাগানগুলো সেই উপনিবেশিক আমলেরই সাক্ষী।
ডিনস্টন সিমেট্রি
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি দূরে জেমস ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগানে এটি অবস্থিত।

শতবর্ষের পুরোনো এই সমাধিতে তৎকালীন ব্রিটিশ চা বাগানের সাহেব ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করা হয়েছিল। এটিও একসাথে কাভার করা যেতে পারে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চিরহরিৎ ও মিশ্র চিরহরিৎ রেইনফরেস্ট। এটি বিখ্যাত তার মানব ও প্রকৃতি সৃষ্ট বন হওয়ার কারণে। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের অন্যতম প্রধান বাসস্থান হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

১৯২২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এই বনটি মূলত তৈরি করে এবং কৃএিম ও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বনের এক অপরুপ নিদর্শন হয়ে যায়।
শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ১২৫০ হেক্টরের এই বনটি ১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এখানো নানা বিদেশি ভিন জাতের গাছ রয়েছে। নানা ধরনের হনুমান উল্লুক, বানর রয়েছে যার দেখা শীতের সকালে অথবা ভরা মৌসুমেও পাওয়া যেতে পারে।

যারা ট্রেকিং প্রেমী তাদের জন্য এখানে এক ঘন্টা,আধা ঘণ্টার ট্রেকিং ট্রেইল রয়েছে। এই ট্রেকিং ট্রেইল ধরে হাঁটলে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন হবে। যারা ট্রেকিং পচ্ছন্দ করেন না অথবা রিলাক্স মুডে থাকতে চাচ্ছেন তারা খাসিয়া পুঞ্জি ঘরে আসতে পারেন এভাবে বনটা আপনারা দুই ঘণ্টার মধ্যে ঘুরে দেখতে পারবেন।

মাধবপুর লেক
মাধবপুর লেকটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। মাধবপুর লেকের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার মুল উপজেলা থেকে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন মাধবপুর লেক মুলত তৈরিকৃত পর্যটনস্থান বা অনেকটা বিশ্রাম নিয়ে ঘোরার জায়গা।
১৯৬৫ সালে চা বাগানের টিলার বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে এই লেক তৈরি করা হয়। শ্রীমঙ্গল ঘুরতে গেলে এ জায়গা যেন বাদ না যায়।

বাইক্কা বিল
চায়ের শহর হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হাইল বিলে অবস্থিত।

২০০৩ সালের ১ জুলাই বাইক্কা বিলকে মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। প্রকৃতিতে হারিয়ে হতে চাইলে বাইক্কা বিল মিস করা যাবে না।

এছাড়া হাতে সময় থাকলে নূরজাহান টি স্ট্রেট, ডার্জিলিং টিলা থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

বধ্যভূমি
১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদারবাহিনী মুক্তিকামী যোদ্ধাদের ধরে এখানে গণফাঁসি দেওয়া হয়।এটি এখনো সাক্ষী হয়ে আছে মহান স্বাধীনতার আত্মত্যাগ ও বলিদানের।বর্তমানে টুরিস্টদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই জায়গাটি। শ্রীমঙ্গল ঘুরতে যেয়ে এখানে চাইলে যাএার শেষ সময়টা কাটিয়ে দিতে পারেন।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন