অ্যালবিনিজমের কারণে বদলেছে শরীরের স্বাভাবিক রং; সাপটির শরীরে রয়েছে একাধিক ক্ষত
প্রকৃতিতে জলঢোঁড়া সাপের পরিচিত রং বাদামি ও কালচে। তবে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী এক জলঢোঁড়ার। শরীরজুড়ে স্বাভাবিক রঙের ছোপের বদলে হলদেটে-সাদা বর্ণের সাপটি নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের ধারণা, অ্যালবিনিজম নামের বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সাপটির শরীরে এমন রঙের পরিবর্তন হয়েছে।
সম্প্রতি বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের হলদিয়াপুকুর গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী মো. সহিদুল ইসলাম।
সাপটি সম্পূর্ণ নির্বিষ জলঢোঁড়া
উদ্ধার করা সাপটি জলঢোঁড়া বা চেকার্ড কিলব্যাক (Checkered keelback)। এর বৈজ্ঞানিক নাম Fowlea piscator। এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ প্রজাতির সাপ।
সাধারণত এ প্রজাতির সাপের শরীরে বাদামি ও কালচে ছোপ দেখা যায়। তবে উদ্ধার হওয়া সাপটির শরীরে সেই পরিচিত রঙের পরিবর্তে হলদেটে-সাদা বর্ণ দেখা গেছে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্য জলঢোঁড়া সাপের তুলনায় এটিকে সহজেই আলাদা করে চেনা যাচ্ছে।
অ্যালবিনিজম কী
অ্যালবিনিজম কোনো আলাদা প্রজাতি নয়; এটি প্রাণীর জন্মগত জিনগত বৈশিষ্ট্য। এ অবস্থায় শরীরে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রাণীর স্বাভাবিক গায়ের রঙে পরিবর্তন আসে। অনেক ক্ষেত্রে চোখের রঙেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যালবিনিজমের কারণে জলঢোঁড়া সাপটির শরীরে স্বাভাবিক বাদামি ও কালচে রঙের পরিবর্তে হলদেটে-সাদা বর্ণ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের সাপ সচরাচর চোখে পড়ে না।
সাপটির শরীরে একাধিক ক্ষত, চলছে পর্যবেক্ষণ
উদ্ধারকর্মী মো. সহিদুল ইসলাম জানান, সাপটির শরীরে একাধিক ক্ষত রয়েছে। অ্যালবিনিজমের কারণে এর স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কয়েকবার খোলস বদলানোর পর সাপটির শারীরিক অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর সাপটির অবস্থা বিবেচনা করে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

