রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, পিবিআইয়ের হাতে তিন আসামি গ্রেফতার
- নিজস্ব সংবাদদাতা
- অক্টোবর ১২, ২০২৫
চট্টগ্রাম | ১২ অক্টোবর ২০২৫:
রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনা উপজেলার পশ্চিম কোদালা গ্রামে কৃষক দিদার আলম (২৮) হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
ঘটনার পটভূমি
মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত দিদার আলমের স্ত্রী কহিনুর আক্তার (২৭) ও তার বন্ধু আব্দুল খালেক (৩০)-এর মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দিদার আলম তাদের সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। পরবর্তীতে কহিনুর তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং এতে যুক্ত হয় আরেক প্রতিবেশী মো. হামজা ওরফে হানজালা (২৬) ও মো. সেলিম (২৮)।
গত ৩০ জুন রাতে কহিনুর ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দুধ খাইয়ে স্বামীকে অচেতন করে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে রাতেই হানজালা ও সেলিম বাড়িতে গিয়ে দিদার আলমের মরদেহ প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে পাশের কোদালা খালে ফেলে দেয়।
তদন্ত ও গ্রেফতার
মামলাটি প্রথমে চন্দ্রঘোনা থানায় দায়ের হলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার পিবিআই চট্টগ্রাম জেলাকে দেওয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবীর খানের তত্ত্বাবধানে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৪ অক্টোবর গাজীপুর থেকে কহিনুর আক্তার ও খালেককে গ্রেফতার করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কহিনুর হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তার তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম কোদালা গ্রাম থেকে হানজালা ও সেলিমকেও গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই পরবর্তীতে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার পেছনের মূল কারণ ও ঘটনার পুরো চিত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। নিহত দিদার আলমের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই বিভাগের আরও খবর
মাদকের বিস্তার ও কিশোর গ্যাং: উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের…
কুমিল্লায় মহাসড়কে ডাকাতি: আদালতের নির্দেশে তদন্তে নেমে ২ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার লুট হওয়া মোবাইল
কুমিল্লার লালমাই এলাকায় মহাসড়কে ব্যবসায়ীর গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির…
মহাখালীতে মোটরসাইকেলে এসে গুলি, আহত ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতালের কর্মচারী
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে রফিকুল…
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য, পাবনায় আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার
পাবনা জেলা পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে আরও…
ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
রাজধানীর বনানী এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার…
সর্বশেষ খবর
3.
জনপ্রিয় বিভাগ সমূহ
আরও পড়ুন
আন্দোলন দমনে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর
আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে সরাসরি গুলি চালানোর…
এক-এগারোর সময়কার মানবতাবিরোধী ঘটনার ‘নেপথ্যের মহানায়ক’ ছিলেন মাসুদ উদ্দিন: চিফ প্রসিকিউটর
আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এক-এগারোর সরকারের সময় যেসব অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল…
পাকিস্তানে চেকপোস্টে গাড়িবোমা ও বন্দুক হামলায় নিহত ১৫
পাকিস্তান–এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুর ফতেহ খেল এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে গাড়িবোমা ও বন্দুক হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত…
তেলের দাম ও বিক্রি বাড়ায় আরামকোর মুনাফা ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি
সৌদি আরামকো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অপরিশোধিত…
মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন আসিফ মাহমুদ
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন। রোববার (১০ মে) রাতে তার দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে…
ম্যাগসেফ পাওয়ার ব্যাংকের সেরা তালিকায় অ্যানকার ম্যাগগো
স্মার্টফোনের চার্জ ৫ শতাংশে নেমে গেলে এবং আশপাশে কোনো চার্জার না থাকলে অনেকের কাছেই পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এ…
জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি…
পুলিশের যৌক্তিক দাবিসমূহ পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ…

