উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১ হাজার ১৩৫ জনের, নতুন করে আক্রান্তের উপসর্গ ১ হাজার ২৩২ জনের
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ছয়জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছেন ১০৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৩৫ জনের।
এক দিনে উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ২৩২ জনের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ২৩২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগে ৪১০ জন, চট্টগ্রামে ২৪৮, বরিশালে ১১৬, সিলেটে ১০০, খুলনায় ৯৬, ময়মনসিংহে ৮৩, রাজশাহীতে ৪০ এবং রংপুরে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রামে ১০৯, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৭, খুলনায় ৫৪ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন, খুলনা বিভাগে দুজন, ঢাকা বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই লাখ রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন।
বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছর হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ৫৪১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। এ কারণে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
অধিদপ্তরের হিসাবে মূলত হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। ফলে এসব পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।

