রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে প্রস্তুতি, ২৯৪টি মণ্ডপসহ বিভিন্ন খাতে ৩৬.৭ লাখ টাকা অনুদান

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ তথা ‘রেইনবো নেশন’ গড়ার বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার মূল লক্ষ্য।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫০০ নারীর মধ্যে পূজার উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ

পূজার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, পুরো নগরীতে উৎসব শুরু হয়েছে এবং তা অত্যন্ত সুচারুভাবে চলছে। দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রটোকল নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মেয়র জানান, আন্দরকিল্লা ও দেওয়ান বাজারসহ যেসব এলাকায় পূজামণ্ডপ রয়েছে, সেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখতে পরিচ্ছন্নতা বিভাগ কাজ করছে।

বিভিন্ন খাতে ৩৬.৭ লাখ টাকা অনুদান

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান বিতরণের বিবরণ তুলে ধরে মেয়র জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি থানা এলাকার ২৯৪টি পূজামণ্ডপের মধ্যে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে ৫ লাখ টাকা এবং চসিক পূজা উদযাপন পরিষদের অধীনে জামালখানের কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

নগরীর চারটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সেবক কলোনিতে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।

‘চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর’

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়ায়। চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাঁদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এই শহর সবার। নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

একটি ‘রেইনবো সিটি’ গড়ে তোলার ধারণা ব্যাখ্যা করে মেয়র বলেন, এমন নগরী গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর চট্টগ্রামে আগমন অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীসহ অন্যরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন