রমনায় নির্মাণাধীন অংশে দুর্ঘটনা; ৭২ বছর বয়সী মোশারফ হোসেনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোশারফ হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোশারফ হোসেনের বয়স ৭২ বছর। তিনি বনানীতে ছোট মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ নিয়ে আসা নিহতের মামাতো ভাই নাজমুল হাসান মিলন জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবে যান মোশারফ হোসেন। তাঁর মেয়ে কয়েক দিন পরপর সুইমিং করতে সেখানে যেতেন।
মিলন জানান, সম্প্রতি মোশারফের ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। ক্লাবে পৌঁছে মেয়েকে সুইমিংয়ের জন্য পাঠিয়ে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দিতে ভবনের নির্মাণাধীন অংশে যান।
নাজমুল হাসান মিলন বলেন, “তিনি চোখে অনেক কম দেখতেন। তিনি আসলে লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না; একবার সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, একবার উঠছিলেন। এর মধ্যে নিচে থেকে কারেন্টের তার তোলার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা আছে, সেখান দিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলে মারা যান।”
ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের কথা
দুর্ঘটনার পর মোশারফ হোসেনের মরদেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মৃত্যুসনদ নেওয়ার জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
নাজমুল হাসান মিলন বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এই মৃত্যুতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কারণ আমরা পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি।”
মিলন আরও জানান, প্রশাসনও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। নিহতের বয়স বিবেচনায় পরিবার ময়নাতদন্ত করাতে চায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

