প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নবগঠিত এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন।
প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ও কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার, ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যক্রম, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের মতো জটিল সাইবার অপরাধ বাড়ছে।
এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশেষায়িত কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিটটি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সাইবার থ্রেট মনিটরিংয়ে কাজ করবে।
এ ছাড়া অনলাইন উগ্রবাদ দমন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও ইউনিটটি ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র এই ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাইবার স্পেসে জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

