দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আধুনিক কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বছরব্যাপী কৃষি উৎপাদনের বিষয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে মসজিদ রয়েছে এবং প্রতিটি মসজিদের সঙ্গে ইমাম ও মুয়াজ্জিন যুক্ত আছেন। তাঁরা আধুনিক ও বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হলে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি গ্রামের মানুষকেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পারবেন।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে কৃষকেরা রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও কৃষি ব্লকে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের আধুনিক কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বার্তা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারের দায়িত্বের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া এবং সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করা। দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে কেউ যেন কোনো অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যায় ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা এবং কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার।
পরে মন্ত্রী তৃতীয় হিফজুল কোরআন বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী হাফেজ ছাত্রদের হাতে বৃত্তির সনদ ও স্মারক তুলে দেন।

