বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু সংকট আর শুধু পরিবেশের নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও: জাতিসংঘে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি ক্রমেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। এই ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন (ইউএনজিএ-৮১) চলাকালে ‘জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন’ বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

সংলাপে অংশ নেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিবেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এসব প্রভাব মোকাবিলা ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে না দেখে নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পৃক্ত একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, জলবায়ু মোকাবিলায় নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি সমুন্নত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে লন্ডন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো একক দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়—এমন বাস্তবতায় ঝুঁকি মোকাবিলা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাই এবারের আলোচনায় বিশেষভাবে সামনে এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন