বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েল-মরক্কো সম্পর্কে নতুন অধ্যায়, দুই দেশে খুলবে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক • নিয়োগ দেওয়া হবে রাষ্ট্রদূত • বাড়বে সরাসরি ফ্লাইট • বিনিয়োগ সুরক্ষা ও দ্বৈত কর এড়াতে চুক্তির উদ্যোগ • তবে দূতাবাস খোলার নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল ও মরক্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে। ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর এবার দুই দেশ নিজেদের বিদ্যমান কূটনৈতিক মিশনকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগে সম্মত হয়েছে। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবারের বৈঠকে অংশ নেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র, মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। বৈঠকে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা বৃদ্ধি ছাড়াও অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সফর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়।

লিয়াজোঁ অফিস থেকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস

বর্তমানে ইসরায়েল মরক্কোর রাজধানী রাবাতে লিয়াজোঁ অফিস পরিচালনা করছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের মর্যাদা পাবে এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হবে। তবে কবে দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এ পদক্ষেপকে ২০২০ সালে শুরু হওয়া সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার আরও এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ধারাবাহিকতায় মরক্কো ওই বছর ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পর ওই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগিয়েছিল মরক্কো।

অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় পদক্ষেপ

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসরায়েল ও মরক্কো ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ করা।

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মরক্কোর বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বর্তমান সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনাও ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসে ইসরায়েল ও মরক্কোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ছয় বছর পর সম্পর্কের নতুন ধাপ

২০২০ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে মরক্কো ও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পথ তৈরি হয়। এরপর পর্যটন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়লেও কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এতদিন পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এর আগেও দূতাবাস পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নীত করার আলোচনা হয়েছিল। তবে এবারের নিউইয়র্ক বৈঠকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগসহ কূটনৈতিক মিশনের মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নীত করার বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতি সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল; পরে মরক্কোও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা

নিউইয়র্কের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি দেখিয়েছে যে ওয়াশিংটন এখনো ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কাঠামোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন পক্ষ ইসরায়েল-মরক্কো সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালে শুরু হওয়া সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া আরও গভীর হবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ—কবে দুই দেশের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং কারা রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন