বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঞ্জীবন প্রকল্পে মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’-এর আওতায় বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে সঞ্জীবন প্রকল্পের আওতায় গঠিত ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’-এর সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আত্মকর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’ গঠনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষ, কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বাহিনীর বিস্তৃত স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সঞ্জীবন প্লাটুনের আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত উপস্থিতি, সংগঠিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতাকে কাজে লাগানো গেলে গ্রামীণ পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম বাড়ানো সম্ভব।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ খাতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে দুধ, মাংস, ডিম ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা ও গাইডলাইন অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যরা উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালন এবং দেশি-বিদেশি জাতের মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দলগত উদ্যোগ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব খামার পরিচালনা করা গেলে নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এর পাশাপাশি মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্য চাষ এবং মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগেও আনসার-ভিডিপির সদস্যদের যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সদস্যদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সঞ্জীবন প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সমন্বিত সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সঞ্জীবন প্রকল্পকে কার্যকর করতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা পাওয়া গেলে সদস্যদের টেকসইভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। সঞ্জীবন প্লাটুনের মাধ্যমে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্জীবন প্রকল্প শুধু আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নয়; এর মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদন, সেবা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন