অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ পদক্ষেপ সরকারের

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকারের নির্দেশনা এবং তা বাস্তবায়নে মনিটরিং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত কোনো একক কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের সমস্যা তৈরি করে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলনের ঘাটতি, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব।

১৩টি পদক্ষেপ

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো—

১. নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিশ্চিত করা।

২. প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।

৩. প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া।

৪. চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা।

৫. নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি করা।

৬. ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।

৭. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

৮. যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে পুনর্বিন্যাস, প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

৯. বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া।

১০. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের পরিধি সম্প্রসারণ করা।

১১. প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

১২. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

১৩. সরকারি ক্রয়কে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিতামূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয়ের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময় নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার মাধ্যমে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন