বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে কিশোরীর মরদেহ রেখে পালাল দুই ব্যক্তি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ রেখে পালিয়েছে দুই ব্যক্তি। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দুই ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের ট্রলিম্যান এগিয়ে গেলে তারা কিশোরীকে ট্রলিতে তুলে দেন।

ট্রলিম্যান আব্দুর রউফের কাছে তারা জানান, টিকিট কেটে আসছেন। এ কথা বলে তারা সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়েন। পরে কিশোরীকে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন এবং দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বলেন, হাসপাতালের ট্রলিম্যানের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি কিশোরীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তারা কিশোরীকে ট্রলিতে তুলে দিয়ে টিকিট কাটার কথা বলে চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।

ঘটনার পর কিশোরীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ওই দুই ব্যক্তি এবং তাদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মোহাম্মদ ফারুক জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ধারণা, কিশোরীর শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন ও গলায় ফাঁসের চিহ্নের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং ওই কিশোরী কীভাবে ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন