মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক-চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মতবিনিময়

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর পুল চত্বরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশ নেন।

মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের দাবি

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার মাদক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা মাদক নির্মূলে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকসেবী ও কারবারিদের সামাজিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাউকে বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়ার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যথাযথভাবে খোঁজখবর নিতে হবে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বাসা ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মাদক কারবারিদের তথ্য দিতে পুলিশের আহ্বান

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এলাকার মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নাম-পরিচয় এবং মাদক বিক্রির স্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে হবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

সভা চলাকালে স্থানীয়দের কয়েকজন মাদক কারবারিদের নাম এবং মাদক বিক্রির বিভিন্ন স্পটের তথ্য পুলিশ সুপারের কাছে তুলে দেন। এসব তথ্য যাচাই করে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের অভিযানই যথেষ্ট নয়। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের এমন সরাসরি মতবিনিময়ের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সভায় অংশ নেওয়া বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জনগণের সমন্বয় বাড়লে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন