মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‌্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামানোর পর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এ ঘটনায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দিনের টাকা একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছিল

পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়।

শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হচ্ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রোববারও নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‌্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন।

একপর্যায়ে তারা গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামান এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

তথ্য ফাঁসের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের টাকা রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে—এ তথ্য দুর্বৃত্তদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি, শিগগির আসামি গ্রেপ্তার ও রহস্য উন্মোচন হবে।’

মালিকানার সঙ্গে তাসীন আক্তার হকের সংশ্লিষ্টতা

মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএল প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে তাসীন আক্তার হক যুক্ত রয়েছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাসীন আক্তার হক প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাসীন আক্তার হকের খালাতো ভাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে।

খুরশীদ জাহান হক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং টাকা উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন