অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ৩ আগস্ট: পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর মতে, কয়েক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে দেশের শহর, উপজেলা এবং গ্রামীণ জনপদে যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যু ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের অসচেতন আচরণ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন হেঁটে বা গণপরিবহনে চলাচল করেন। রাস্তা, ফুটপাত, বাজার কিংবা জনসমাগমস্থলে আবর্জনা জমে থাকলে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চলাচলে বিঘ্ন—সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ব্যবহার শেষে বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা অপসারণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মধ্যে সম্পর্কও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষ যেমন নিজের ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আগ্রহী, তেমনি দেশের রাস্তা, পার্ক, জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থানগুলোকেও নিজের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ব্যক্তিগত জীবনে যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে ওঠে, সেটি জনপরিসরেও প্রতিফলিত হলে সামগ্রিক পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, অনেক পুকুর, খাল ও জলাশয়ের ভেতরে কিংবা আশপাশে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পেয়েছেন। একসময় যেসব স্থান মানুষ অবসর কাটানোর জন্য ব্যবহার করত, সেগুলোর অনেকগুলো এখন আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিবেশের পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাধার ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করলেও নাগরিকদের অসচেতন আচরণের কারণে সেই পরিবেশ বেশিক্ষণ বজায় থাকে না। তাই পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব কেবল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে না দিয়ে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আজ থেকেই যদি সবাই নিজ নিজ ব্যবহৃত বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলে ধীরে ধীরে একটি আবর্জনামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ নিশ্চিত করা যাবে।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ সবার। তাই দেশের উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন