অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

জুলাইয়ের চেতনায় ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের আহ্বান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের মানুষ দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সেই চেতনাকেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফার্স্ট জুলাই কনক্লেভ অন জুলাই রেভোল্যুশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আন্দোলনে প্রাণ হারানো মানুষদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক স্থায়ী দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। তাঁদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, বিচারব্যবস্থা হবে নিরপেক্ষ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন।

তিনি বলেন, আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের অনেকেই এখনো কঠিন সময় পার করছেন। তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে এবং সরকার সেই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রত্যাশাগুলো পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানালে মাহদী আমিন তাঁদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রেখেই আন্দোলনের অসমাপ্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।

আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সরকারদলীয় হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চার মধ্য দিয়েই তা বাস্তব রূপ পাবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রাম। তিনি নতুন রাষ্ট্রগঠনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই আলোচনায় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্ট-জুলাই বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত পৃথক আলোচনায় সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সমাজে নতুন বিভাজনের পরিবর্তে সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আশরাফ কায়সার এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের ভূমিকার মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনে মুক্ত ও দায়িত্বশীল জনআলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শহীদ ফাহমিন জাফরের মা এবং জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা জাফর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন