জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে ট্রাম্পের নতুন আদেশ আপাতত বহাল, নিষেধাজ্ঞা দিলেন না বিচারক
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক
- ১০ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ ঠেকানোর চেষ্টা আপাতত সফল হয়নি। আদেশটির ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। তবে এতে ট্রাম্পের আদেশ বৈধ বলে স্বীকৃতি পায়নি; বরং মামলাকারীদের আবেদন সংশোধন করে আবার আদালতে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশ ঘিরে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শুক্রবার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান আদেশটির কার্যকারিতা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার আবেদন মঞ্জুর করেননি।
তবে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে নিজের উদ্বেগও গোপন করেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া এই বিচারক। নতুন নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, তার জানা মতে এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন।
আদালতের সিদ্ধান্তে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সাময়িক ধাক্কা খেলেও আইনি লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। বিচারক মামলাকারীদের গত ৬ আগস্ট জারি করা নতুন নির্বাহী আদেশটি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগ সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশোধিত আবেদন জমা পড়ার পর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আবারও বিবেচনা করা হতে পারে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য কী?
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প। এর অন্যতম বিতর্কিত অংশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা।
ট্রাম্প ও তার মিত্রদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের কেউ কেউ শুধু সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন—যাকে তারা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অথবা বৈধভাবে সাময়িক সময়ের জন্য থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্বের নথি না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।
আদেশটি জারির পরপরই আদালতে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিচারক বোর্ডম্যানও সে সময় প্রথম আদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিচারকদের একজন ছিলেন।
এরপর এলো দ্বিতীয় আদেশ
আগের উদ্যোগ আইনি বাধার মুখে পড়ার পর গত ৬ আগস্ট নতুন করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এবার আগের তুলনায় এর পরিধি সংকুচিত করা হয়।
নতুন আদেশে নির্দিষ্ট কিছু অনাগরিক বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এলিয়েন এনিমি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং কেবল সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে বিদেশি পক্ষের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ।
কী বলে মার্কিন সংবিধান?
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী।
১৮৬৮ সালে গৃহীত সংশোধনীটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনি এখতিয়ারের আওতাধীন ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করে। এর ফলে সাধারণভাবে বাবা-মায়ের জাতীয়তা বা অভিবাসন অবস্থান যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশু মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কূটনীতিকদের সন্তানসহ অল্প কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে।
এই নীতির পক্ষে দীর্ঘদিনের বিচারিক নজিরও রয়েছে। United States v. Wong Kim Ark মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট চীনা অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব অস্বীকার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছিল।
‘প্রেসিডেন্ট ঠিক করতে পারেন না কে জন্মসূত্রে নাগরিক’
ট্রাম্পের নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে গেছে অভিবাসী পরিবার ও অধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট। এর মধ্যে রয়েছে We Are CASA ও Asylum Seeker Advocacy Project।
তাদের মূল বক্তব্য, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধান স্বীকৃত অধিকার হওয়ায় নির্বাহী আদেশ দিয়ে প্রেসিডেন্ট নিজের মতো করে নির্ধারণ করতে পারেন না কে মার্কিন নাগরিক হবে আর কে হবে না।
তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট যতবারই নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করুন না কেন, নির্বাহী বিভাগ সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকত্ব অস্বীকার করতে পারে না।
লড়াই এখনো শেষ নয়
শুক্রবারের আদালতের সিদ্ধান্ত তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি হলেও এটি বড় কোনো চূড়ান্ত আইনি বিজয় নয়। বিচারক নতুন নির্বাহী আদেশ সাংবিধানিক কি না, সেই মূল প্রশ্নে এখনো রায় দেননি।
অন্যদিকে অধিকার সংগঠনগুলোর জন্যও পথ বন্ধ হয়নি। তাদের এখন নতুন নির্বাহী আদেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত অভিযোগ জমা দিতে হবে। এরপর আদালত আদেশটির বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নতুন করে বিবেচনা করতে পারেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কে জন্মসূত্রে নাগরিক হবেন—দেড় শতাব্দীর বেশি পুরোনো সেই সাংবিধানিক প্রশ্নকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আইনি লড়াই এখন নতুন পর্বে প্রবেশ করল।
এই বিভাগের আরও খবর
বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের নতুন শক্তি: রপ্তানি ছাড়িয়ে প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে আধিপত্য
গত দুই দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থানে বড়…
নেপালের আপার ত্রিশূলী টানেল থেকে ৩৫০ জন উদ্ধার, আটকে আরও শতাধিক
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর আপার ত্রিশূলী…
নেপাল–তিব্বতে বন্যার তাণ্ডব: ১৬৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ সহস্রাধিক
নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও…
বন্যাকবলিত নুয়াকোট পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এর সফর
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের…
একতরফা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের যে আর্থিক ও…
সর্বশেষ খবর
3.
জনপ্রিয় বিভাগ সমূহ
আরও পড়ুন
ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ভোগে রোগীরা
অব্যাহত লোডশেডিং ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে…
হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৬০
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো মৃত্যুর…
দেশকে রক্ষা করতে হলে বিরোধীদলের আন্দোলন বন্ধ করতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে বিরোধীদলের আন্দোলন বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার (২৮…
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ৩৩৮ রিক্রুটিং এজেন্সি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মীকে…
গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল, এমআরটি লাইন-২-এর রুট চূড়ান্ত
রাজধানীর গাবতলী থেকে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)…
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ষ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ষ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও…
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘন্টায় ৪৯১ জন গ্রেফতার, ৩৯ মামলা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৪৯১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময়ে বিভিন্ন অভিযোগে…
শাহ আলীতে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেফতার
রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটির…

