শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নেপাল–তিব্বতে বন্যার তাণ্ডব: ১৬৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় এই ভয়াবহ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্গম এলাকা, বিধ্বস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দুর্গত মানুষের জন্য নেপালকে ৫ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি আশ্রয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর এখনো ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরও অন্তত ১০৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দা রয়েছেন ৩২ জন।

নেপালি পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় আরও ২৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, প্রবল স্রোতে নদীতীরবর্তী বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে। একটি ছবিতে কাদামাটির নিচে চাপা পড়া বাড়ির কেবল ওপরের অংশ দেখা গেছে।

দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চীনের গিরং সীমান্তপথটি নেপাল ও চীনের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র হওয়ায় দুর্যোগের প্রভাব ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রমেও পড়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন