অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টির তাণ্ডব, এক মাসে প্রাণহানি শতাধিক

অব্যাহত মৌসুমি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং ভবন ধসের ঘটনায় পাকিস্তানে প্রাণহানির সংখ্যা এক মাসে শতাধিক ছাড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে এ পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

এনডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটেছে ভারী বৃষ্টির সময় বাড়িঘর ও ভবনের ছাদ ধসে পড়া, আকস্মিক বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশ। বিশেষ করে পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটিয়েছে।

লাহোরসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরে টানা ভারী বর্ষণে সড়ক, আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় বিভিন্ন প্রদেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং তাপপ্রবাহের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বন উজাড়ের মতো কারণও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এবারের বর্ষা মৌসুম কেবল একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়; বরং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, সড়ক যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারের মৌসুমি বৃষ্টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন