অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

নাবলুসে হামলার পর উত্তপ্ত পশ্চিম তীর, নতুন নিরাপত্তা সংকটে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি অধিগ্রহণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন হিব্রু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে পশ্চিম তীরে বিপুলসংখ্যক নতুন বসতি আউটপোস্ট ও বসতি খামার গড়ে ওঠায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইওএফ) ওপর অতিরিক্ত নিরাপত্তা দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। এর ফলে সেনাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে মোতায়েন রাখতে হচ্ছে, যা জনবল সংকটের মধ্যে বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ২৪টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন। এছাড়া প্যারাট্রুপার ইউনিটও সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় সামরিক মোতায়েন।

একাধিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে অভিযান এবং তার জেরে সংঘটিত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধমূলক হামলা প্রায়ই সহিংসতার নতুন চক্র তৈরি করছে। এসব ঘটনার পর সেনাবাহিনীকে অভিযান, অবরোধ ও বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, যা তাদের লজিস্টিক ও জনবল সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি গাজা, লেবানন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ফ্রন্টেও ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ধারণা, পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কারণে অন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে বাহিনী ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

হিব্রু ভাষার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিরাপত্তা বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র ও ড্রোন চোরাচালানের আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েও ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু পর্যবেক্ষক সম্ভাব্য ‘তৃতীয় ইন্তিফাদা’র ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর ডানপন্থী কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়েও দেশটির নিরাপত্তা মহলের ভেতরে উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

এদিকে হামাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পশ্চিম তীরে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিই ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ। সংগঠনটির কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওয়ি পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের অবস্থানকে প্রশংসা করে বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র শাখা আল-কুদস ব্রিগেডও। তাদের দাবি, পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চলমান সংঘাত ও আল-আকসা মসজিদ, ফিলিস্তিনি বন্দি এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ঘটনাবলির প্রতিক্রিয়া।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নাবলুসের কাছে এক বন্দুক হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর একজন মেজর ও একজন সেনা সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন