অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পাওনা টাকা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্বে তরুণী হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটন, চার আসামির স্বীকারোক্তি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাওনা টাকা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে ফুলদী নদী থেকে এক তরুণীর অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তদন্তে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা হালিমা আক্তার (১৯)।

ঘটনার পর নিহতের বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে আবু কালাম, জামাল হোসেন, রাসেল মিয়া ও আলামিন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের সঙ্গে কয়েকজন আসামির আর্থিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কৌশলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন