অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, আর সেই লক্ষ্যেই দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমির মালিকানার জটিলতা বেড়েছে। একসময় একটি জমির মালিক একজন হলেও বর্তমানে একই জমিতে অসংখ্য অংশীদার তৈরি হয়েছে। ফলে জমির মালিকানা, খতিয়ান, নামজারি, দাগ, পর্চা ও খাজনাসহ ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অনলাইনভিত্তিক ভূমিসেবা চালুর মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভূমিসেবা মেলা সাধারণ মানুষকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বেড়েছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। একইসঙ্গে ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে, যাতে মানুষ সহজে, দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সেবা পেতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকদের আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না কিংবা দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হবে না।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার বিষয়টি আগেই দলীয় ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল। সারাদেশে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা আয়োজনের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির একটি বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বড় অংশ জমিজমা সংক্রান্ত। তিনি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (এডিআর), গ্রাম আদালত ও সালিশ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে আদালতের মামলার চাপ কমার পাশাপাশি দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন-এর একটি উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, জমি কেবল সম্পদ নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তাই জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় শুরু হওয়া ভূমিসেবা মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধন এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিজানুর রহমান মিনু। বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন