শেরপুরে মামাতো ও ফুপাতো ভাইদের পরিবারের মধ্যে প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর জেলা। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশিও জব্দ করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে শেরপুর সদর থানাধীন বাগলগড় গ্রামের একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মরদেহের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে সেটি তার ছেলে আল আমিনের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) ফয়জুর রহমানকে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৯ মে শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে প্রধান আসামি শুভকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিনে সহযোগী আসামি সম্রাট (২০)-কেও গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে যে নিহত আল আমিনের বিধবা বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার মামাতো ভাই শুভর। এদিকে আল আমিনও শুভর বোনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। একই সময়ে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল আমিনের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। আল আমিন শুভর বোনকে কাছে পাওয়ার শর্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানবোধ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি “কাজ” করার প্রস্তাব দেয়। পরে গত ১৩ মে শুভ কৌশলে বন্ধু শান্ত’র মোটরসাইকেলে করে আল আমিনকে ঘটনাস্থলের দিকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সে সঙ্গে একটি চাকুও নিয়ে যায়। একইসঙ্গে সহযোগী সম্রাটকে ঘটনাস্থলে যেতে বলে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শুভ লাইলনের চিকন দড়ি দিয়ে পিছন থেকে আল আমিনের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে সম্রাট তার মাথা চেপে ধরে রাখে। পরে শুভ পকেটে থাকা চাকু দিয়ে আল আমিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, শুভর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর শুভকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও মোটরসাইকেলের মালিক মো. সাঈদ আহাম্মেদ ওরফে শান্তও ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, সহযোগী আসামি সম্রাটের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

