মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

জবাবদিহিতামূলক এলিট ফোর্স গঠনে নতুন আইন প্রণয়ন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি আধুনিক, পেশাদার ও জবাবদিহিতামূলক এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে র‍্যাব ফোর্সেসের আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানীর র‍্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব বাংলাদেশ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্ব-স্ব বাহিনীর আইনি কাঠামোর আওতায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের মাধ্যমে র‍্যাবকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুন নামে পরিচালনা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে র‍্যাব কোনো স্বাধীন আইনের অধীনে নয়, বরং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি বিশেষ ধারার ভিত্তিতে ‘অ্যাডহক’ কাঠামোয় পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স এভাবে দীর্ঘদিন পরিচালিত হতে পারে না। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে, যা তিনি নিজেই তত্ত্বাবধান করছেন।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাহিনীর কর্তৃত্ব, দায়িত্বের পরিধি, স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে বাহিনীর বর্তমান সম্পদ, লজিস্টিকস ও সক্ষমতাও নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে পুলিশ, র‍্যাব কিংবা অন্য কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এসব বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য।

বিগত সরকারের আমলের গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুম কমিশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনগত এখতিয়ার না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন ও শক্তিশালী করার কাজ করছে। এই সংস্কার সম্পন্ন হলে গুম, নিখোঁজ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশসহ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন