সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

অনলাইন জুয়ার আড়ালে কোটি কোটি টাকা পাচার, সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ৮

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা বিকাশ, নগদ, রকেট, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতো। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হতো।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) এবং আব্দুর রহমান (৪৭)।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায় যে, একটি চক্র বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথম ধাপে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সার্ভিল্যান্স ডেটা বিশ্লেষণ করে গত ১৬ মে নরসিংদীর পলাশ থানা ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ধারাবাহিক দুই অভিযানে সিআইডি মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কুরিয়ার রশিদ জব্দ করেছে। জব্দকৃত সিমের মধ্যে বিকাশ এজেন্ট সিমও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সিআইডি বলছে, গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ব্যবহৃত ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তে কাজ চলছে।

সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট জানিয়েছে, চলতি মে মাসের ১ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এর আগে ‘এমটিএফই’ পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল সিআইডি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন