শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

এনসিপির চট্টগ্রাম কমিটিতে ভাঙনের সুর, একদিনেই পদত্যাগ ২২ নেতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণার একদিনের মধ্যেই বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সদ্য ঘোষিত ১৬৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মীর পদত্যাগ দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও সদস্য পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষণার পরপরই কমিটিকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।

পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি এবং মামলা বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি কমিটির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছেও তুলে ধরা হবে।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা থেকেই তারা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অভিযোগে তারা হতাশ হয়েছেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এখনো সাংগঠনিক ভিত্তি সুসংহত করার পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটে একযোগে এত নেতার পদত্যাগ দলটির জন্য বড় ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দলটি যদি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম মহানগর রাজনীতি বরাবরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, সেটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

পদত্যাগ করা নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ এহছানুল হক, কামরুল কায়েস, মো. সোহরাব চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম, বদিউল আলম, মোহাম্মদ সরোয়ার আলম, ইকবাল মাসুদ, রকিবুল ইসলাম, ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ, হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, সাদমানুর রহমান চৌধুরী, সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ, মোহাম্মদ কারিওল মাওলা, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মোশাররফ হোসেন রবিন, নুরুল আবছার সাইবান, মোস্তফা রাশেদ আজগর, মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ, মো. নুরুদ্দীন, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, মো. ওমর সাঈদ ও তাহজীব চৌধুরী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন