বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও বেশি ক্ষমতায়িত হবে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে “বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনের রূপরেখা” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু সনদ প্রদান নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ধারণ করে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একজন কৃষকের হাতে থাকবে কৃষক কার্ড। সেই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক সরকারি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, কৃষি বীমা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সুবিধা পাবেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহার করে কৃষির উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ই-স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসাও সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক শিক্ষক এক ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদানের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়বে।

বেকারত্ব নিরসনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, পর্যায়ক্রমে চিনিকল, পাটকল ও পাটজাত শিল্প চালু হলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ও পরিবার কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষমতায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধার জন্য প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে। এছাড়া স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যাগ, জুতা ও স্কুল পোশাক দেওয়া হবে এবং মধ্যাহ্নভোজ নিশ্চিত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হবে এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে মেধাপাচারকে মেধা বিনিময়ে রূপান্তর করা।”

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, দলগত কাজ এবং পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব শিক্ষা মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন