মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয়দের সাশ্রয়ের আহ্বান মোদির

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় ভারতের জনগণকে জ্বালানি, বৈদেশিক মুদ্রা ও আমদানি ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রোববার দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদে এক জনসভায় তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, স্বর্ণ কেনা ও অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি করোনাকালের মতো “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” পদ্ধতি অনুসরণেরও আহ্বান জানান।

মোদি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনলাইন বৈঠক বাড়ানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং কারপুলিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ কমানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া পরিবারগুলোকে ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমাতে এবং কৃষকদের সার ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশপ্রেম শুধু সীমান্তে আত্মত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংকটের এই সময়ে দায়িত্বশীল জীবনযাপনও দেশপ্রেমের অংশ।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার ছিল, বর্তমানে তা ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

ইরানের ওপর সামরিক ও নৌ অবরোধ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বিমান ভাড়া, সার আমদানি ও শিল্প উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। গত অর্থবছরে দেশটি প্রায় ১২৩ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। এছাড়া প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে ভারত, যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯০ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) চলতি বছরে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি ও সার আমদানি কমানো ভারতের পক্ষে সহজ নয়। কারণ দেশটির অর্থনীতি ও কৃষি খাত এসবের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে সরকার এখন স্বর্ণ আমদানি ও বিদেশ ভ্রমণের মতো খাতগুলোতে ব্যয় কমাতে জনগণকে উৎসাহিত করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন