শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ঈদুল আজহায় দেশে কুরবানির পশুর সংকট নেই, স্থানীয় খামারিরাই চাহিদা পূরণে সক্ষম: কৃষিমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে কুরবানির পশুর সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে কুরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এ বছর প্রায় ১ কোটি গরু, মহিষ ও ভেড়া কুরবানি হতে পারে বলে সরকার ধারণা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রামের খামারি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক খামারগুলো এখন অনেক বেশি পরিকল্পিত ও আধুনিক পদ্ধতিতে পশু পালন করছে। উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনার কারণে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ শুধু কুরবানির পশুতেই নয়, মাংস উৎপাদনেও প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। স্থানীয় খামারিরা দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হওয়ায় বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, “দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

তিনি বলেন, অবৈধ পশু প্রবেশ রোধ করা গেলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কুরবানির পশুর বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় খামারিরা যেন উৎসাহ নিয়ে পশু পালন করতে পারেন এবং তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে। এজন্য প্রাণিসম্পদ খাতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এর আগে মন্ত্রী সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম এবং খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে খামারভিত্তিক পশু উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর সরবরাহ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন