বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: তদন্তে ঢাকায় ৫৮ জন নিহতের তথ্য, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, “শেখ হাসিনা প্রধান আসামি হবেন। তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। তার সংশ্লিষ্টতা আমরা পেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারপ্রধান ছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সদস্য এবং আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের ১৪ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল একটি “সিস্টেম্যাটিক ক্রাইম” বা পরিকল্পিত অপরাধ। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা করা হয়েছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে দিন ও রাতে শুধু শাপলা চত্বর ও ঢাকায় ৩২ জন নিহত হন, যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জে নিহত হন আরও ২০ জন। একই দিনে চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮ জনে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, নিহতদের কবর, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েকজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও অনেকের হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ আরও অনেকে।

এদিকে পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল এ মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ২০২১ সালের ১০ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, তারা প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিহত ৬১ জনের নাম সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পেজে ওই ৬১ জনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন