অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২০ মে ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভনে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন চক্রটির অন্যতম মূলহোতা মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও বিকাশ ডিএসও মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে সরাইল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২২ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ১৬ মার্চ পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরগুলোর কেওয়াইসি তথ্য ও লেনদেনের স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে যে গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশে চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করত। মূল পলাতক আসামি প্রাণ ইসলামের নির্দেশনায় খাইরুল ইসলাম ‘আরিফ মন্ডল’ নামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করত। এসব ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে অস্ট্রেলিয়ায় কম খরচে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো।

অন্যদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে আত্মসাৎ করা অর্থ ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেন গোপনে পরিচালনায় সহযোগিতা করতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। পিবিআই জানিয়েছে, চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন