অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১ জুন ২০২৬

স্মার্টফোনই হবে গাড়ির চাবি: অ্যান্ড্রয়েডের ডিজিটাল কার কী প্রযুক্তির বিস্তার

ডিজিটাল ওয়ালেটের পর এবার গাড়ির চাবিও স্মার্টফোনে

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের বিকল্প হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। গুগল পে ও অ্যাপল পের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার পর এবার গাড়ির চাবির বিকল্প হিসেবেও স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডের ‘ডিজিটাল কার কী’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা গুগল ওয়ালেট ব্যবহার করে গাড়ির দরজা খুলতে পারবেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকেই গাড়ি চালু করাও সম্ভব হবে।

কী এই ডিজিটাল কার কী?

গুগল ২০২১ সালে অ্যান্ড্রয়েড ১২ সংস্করণের মাধ্যমে ডিজিটাল কার কী সুবিধা চালু করে। এর এক বছর আগে অ্যাপল তাদের আইওএস প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের ‘কারকি’ প্রযুক্তি চালু করেছিল। এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা তাদের গাড়ির চাবির ডিজিটাল সংস্করণ স্মার্টফোনের ওয়ালেট অ্যাপে সংরক্ষণ করতে পারেন।

প্রযুক্তিটি মূলত নিরাপদ বেতার সংযোগের মাধ্যমে গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়। তবে অন্তত গাড়ির দরজা খোলা এবং লক করার সুবিধা থাকে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ডিজিটাল চাবি অন্য ব্যবহারকারীর ফোনেও শেয়ার করা যায়, এমনকি আইফোন ব্যবহারকারীদের কাছেও।

দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফল

ডিজিটাল কার কী প্রযুক্তি নতুন মনে হলেও এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। ২০১৮ সালে ‘কার কানেক্টিভিটি কনসোর্টিয়াম’ প্রথম ডিজিটাল কী মানদণ্ড প্রকাশ করে। বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সেই মানদণ্ডের আধুনিক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে প্রযুক্তিটি

অ্যান্ড্রয়েডে ডিজিটাল কার কী যুক্ত করার পর স্মার্টফোন ব্লুটুথ, আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (ইউডব্লিউবি) এবং প্রয়োজনে এনএফসি প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ফোনের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে। ফলে ফোন গাড়ির খুব কাছে না থাকলে গাড়ি আনলক হবে না। যেসব ফোনে ইউডব্লিউবি নেই, সেখানে এনএফসি বা ব্লুটুথের মাধ্যমে মৌলিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করা যায়।

প্রচলিত চাবির চেয়ে বেশি নিরাপদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল কার কী অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত রিমোট কী-ফবের চেয়েও নিরাপদ। কারণ অনেক সময় সাইবার অপরাধীরা ‘রিলে অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে গাড়ির চাবির সংকেত বাড়িয়ে গাড়ি খুলতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে ডিজিটাল কার কী ফোনের নিরাপদ স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে এবং ফোনের বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, পাসওয়ার্ড ও এনক্রিপশন ব্যবস্থার সুরক্ষা পায়। ফলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

কীভাবে ফোনে যুক্ত করবেন ডিজিটাল চাবি

গাড়ির ব্র্যান্ডভেদে ডিজিটাল চাবি যুক্ত করার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। কিছু নির্মাতা নিজেদের অ্যাপের মাধ্যমে সুবিধাটি প্রদান করে। কেউ ই-মেইলে বিশেষ লিংক পাঠায়, আবার কিছু গাড়িতে ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লের মাধ্যমেও সেটআপ করা যায়।

প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে একটি হালনাগাদ অ্যান্ড্রয়েড ফোন, গুগল ওয়ালেট অ্যাপ এবং একটি গুগল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয়। এরপর এনএফসি রিডার, যাচাইকরণ কোড বা উভয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে ডিজিটাল চাবি সক্রিয় করা যায়।

কোন ফোনে ব্যবহার করা যাবে?

ডিজিটাল কার কী ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা তার পরবর্তী সংস্করণ প্রয়োজন। গুগলের পিক্সেল সিরিজের নতুন মডেল, স্যামসাং গ্যালাক্সি সিরিজের সাম্প্রতিক ডিভাইস, মোটোরোলা ও ওয়ানপ্লাসের বেশ কিছু মডেল এ সুবিধা সমর্থন করে।

তবে পূর্ণ সুবিধা পেতে ফোনে ব্লুটুথ, এনএফসি এবং আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি থাকা প্রয়োজন। যদিও মৌলিক সুবিধার জন্য ব্লুটুথ ও এনএফসি থাকলেই কাজ চলে।

যেসব গাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে সুবিধা

বর্তমানে ডিজিটাল কার কী সুবিধা মূলত প্রিমিয়াম ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বেশি দেখা যাচ্ছে। কিয়ার ইভি৩, ইভি৪, ইভি৫, ইভি৬ ও ইভি৯, হুন্দাইয়ের আইওনিক ৫ ও আইওনিক ৫এন, ভলভোর ইএক্স৯০, বিএমডব্লিউ এক্স৫ এবং ২০২৫ সালের পর উৎপাদিত রিভিয়ান মডেলগুলোতে এ সুবিধা রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও বেশি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে স্মার্টফোনই হয়ে উঠতে পারে গাড়ির প্রধান চাবি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন