বাংলাদেশে ১৭ বছর পর একটি “ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১১ জুন) লন্ডনে আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংলাপে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে এবার যে নির্বাচন হবে, তা হবে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়।” তাঁর ভাষায়, “একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছি আমরা, যেখানে জনগণ নিজের ভোটে সরকার নির্বাচন করবে—কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই।”
এর আগে সকাল ৯টায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের প্রভাবশালী থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের পরিচালক বেন ব্ল্যান্ড ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. চিয়েটিজ বাজপাইয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. ইউনূস। এরপর সকাল ১১টায় চ্যাথাম হাউসের মূল হল কক্ষে আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন তিনি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
চ্যাথাম হাউসের এ নীতি সংলাপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশকে একটি গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাচনের পথে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের সমর্থন আদায়ে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। ড. ইউনূসের সফর ও মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

