শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ভারতের প্রথম স্পেস-টেক ইউনিকর্ন স্কাইরুট, নতুন বিনিয়োগ পেল ৬০ মিলিয়ন ডলার

ভারতের বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) ৬০ মিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের মাধ্যমে দেশটির প্রথম স্পেস-টেক ইউনিকর্নে পরিণত হয়েছে। নতুন বিনিয়োগের ফলে হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের প্রথম কক্ষপথমুখী রকেট ‘ভিক্রম-১’ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে রকেটটি ভারতের শ্রীহরিকোটার মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং সব ধরনের ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করে জুন মাসে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-এর সাবেক দুই প্রকৌশলী পবন কুমার চান্দানা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য রকেট তৈরি করছে। তাদের ‘ভিক্রম-১’ রকেট প্রায় ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পে-লোড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বহন করতে সক্ষম হবে।

নতুন বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে শেরপালো ভেঞ্চারস ও সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জিআইসি। এছাড়া ব্ল্যাকরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের মাধ্যমে কাঠামোবদ্ধ ঋণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন বিনিয়োগে প্লেবুক পার্টনারস, আরকাম ভেঞ্চারস এবং গ্রিনকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতারাও অংশ নিয়েছেন। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বোর্ড সদস্য ও শেরপালো ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা রাম শ্রীরাম স্কাইরুটের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন।

২০২২ সালের নভেম্বরে স্কাইরুট ‘ভিক্রম-এস’ নামের সাবঅরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসে। সেটি ছিল ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত রকেট উৎক্ষেপণ।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন অর্থায়ন ব্যবহার করা হবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, ‘ভিক্রম-১’ মিশনের উৎক্ষেপণ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ভারী রকেট ‘ভিক্রম-২’ উন্নয়নে। ২০২৭ সালে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া ‘ভিক্রম-২’ এক টন শ্রেণির পে-লোড বহনে সক্ষম হবে এবং এতে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক মহাকাশ বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারি হিসাব বলছে।

সরকারি সংস্কারের ফলে ২০২০ সালের পর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরোর অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে দ্রুত স্পেস-টেক স্টার্টআপ গড়ে উঠছে এবং বর্তমানে ভারতে প্রায় ৪০০ মহাকাশ প্রযুক্তি স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন