বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সংবেদনশীল এনআইডি ও কল ডিটেইলস বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেফতার

প্রান্তকাল ডেস্ক:

দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কল ডিটেইলস, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক তথ্যসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে এক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃত মো. আরমান হোসেন (২২) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়।

সিআইডি জানায়, গত বছরের ৯ অক্টোবর সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন পর্যবেক্ষণের সময় ‘Siam Howlader’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে দেশের নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। সেখানে এনআইডির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, এসএমএস তালিকা, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক হিসাব এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকা থেকে মো. সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোনে ‘সব এখানে’ (Sob Akhane) নামে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম ওই অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, পুরো অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরির পেছনে ছিলেন দক্ষ এক প্রোগ্রামার।

এরই সূত্র ধরে গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, আরমান sobakhane.xyz, sobakhane.onlinesobakhane.info নামে একাধিক ওয়েবসাইট তৈরি করেন। পাশাপাশি ‘সব এখানে’ নামে অ্যাপ তৈরি করে সংঘবদ্ধ চক্রটির সদস্যদের সহযোগিতায় বিভিন্ন নাগরিকের এনআইডি তথ্য, কল ও এসএমএস ডেটা, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব তথ্য জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হতো। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে সিআইডি। ইতোমধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে আসামিদের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত আরমান হোসেনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন