শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে প্রেমিককে হত্যা, পিবিআইয়ের তদন্তে স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার; আদালতে দোষ স্বীকার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘটিত জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় নিহতের প্রেমিকা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার বড়খারচর মধ্যপাড়া এলাকার একটি ঘাসক্ষেতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে। প্রায় দুই মাস তদন্তের পর পূর্ব শত্রুতার সূত্র ধরে নিহতের এক মামাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিট স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে কুলিয়ারচর এলাকা থেকে হুসনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৪ জুন মূল আসামি শহীদ মিয়া (৪৮)-কে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। জাহাঙ্গীরের বিয়ের আগ থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তা পরবর্তীতেও অব্যাহত ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শহীদ মিয়া তার স্ত্রীকে খড় আনতে পাঠান। ওই সময় জাহাঙ্গীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হুসনা ও জাহাঙ্গীর কাছের একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেতে যান এবং সেখানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিলেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, বিষয়টি টের পেয়ে শহীদ মিয়া একটি ছুরি নিয়ে তাদের খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে তিনি দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান এবং ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালান। ছুরিকাঘাতে জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে শহীদ মিয়া রশি দিয়ে নিহতের হাত-পা বেঁধে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শহীদ মিয়া ও হুসনা খাতুন উভয়েই বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন