গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও নিরস্ত্রীকরণ বিতর্কের মধ্যে হামাস জানিয়েছে, তারা এখনই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না। তবে গাজা প্রশাসনের দায়িত্ব কোনো জাতীয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হলে জনসমক্ষে সশস্ত্র উপস্থিতি থাকবে না এবং নিরাপত্তা দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক বাহিনীর হাতে থাকবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান বলেন, গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব যদি জাতীয় কমিটির কাছে যায়, তাহলে রাস্তাঘাটে কেবল সরকারি পুলিশ বাহিনীর অস্ত্রই দৃশ্যমান থাকবে। তবে এটি অস্ত্র সমর্পণের সমার্থক নয়। অস্ত্রের ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি জানান, হামাস একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বা ‘হুদনা’ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল শিগগিরই কায়রোতে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে পারে। সেখানে হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনসহ আটটি ফিলিস্তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
হামাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো বাস্তবায়নে ইসরাইল ব্যর্থ হয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশ, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের কার্যক্রম, অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং সামরিক অভিযান বন্ধের মতো বিষয়গুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত একটি রূপরেখায় ধাপে ধাপে অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ এবং তার বিনিময়ে ইসরাইলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেমও জানিয়েছেন, সংগঠনটি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক তদারকি এবং ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতির মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া ওই কমিটির কার্যকর দায়িত্ব গ্রহণ কঠিন হবে।
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরবর্তী রূপ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

