অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের দাম বাড়ল, খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা

ঢাকা, ৩ জুন : বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন মূল্যহার চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে বিইআরসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিশন এ ঘোষণা দেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়ের বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিভিন্ন হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

পরে বিইআরসির কারিগরি কমিটি বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের পর্যালোচনা করে গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করে। কমিশন সেই সুপারিশসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য ও সেবার মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের ওপরও পড়তে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন