অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, গুরুত্ব পেল বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা ইস্যু

ঢাকা, ২ জুন: বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নরওয়ের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করছে, যার ভিত্তি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, নরওয়ে এখন প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য নরওয়ের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নরওয়ের বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।

জবাবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও নরওয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় নরওয়ে পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন