বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি বেড়ে দ্বিগুণের বেশি

সৌদি আরব চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাজেট পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এবং ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় বছরে ২০ শতাংশ বেড়ে ৩৮৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। অন্যদিকে তেল বিক্রি থেকে আয় ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়ালে।

এর আগে গত ডিসেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ পুরো ২০২৬ সালের জন্য ৬৫ বিলিয়ন রিয়াল ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বছরের প্রথম প্রান্তিকেই সেই হিসাব অনেকাংশে ছাড়িয়ে গেছে।

খাতভিত্তিক ব্যয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নয়ন খাতে ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। এছাড়া সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক, অবকাঠামো ও পরিবহন খাতেও ব্যয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ করে।

যদিও অ-তেল খাত থেকে রাজস্ব আয় ২ শতাংশ বেড়েছে, তবে তা তেল বিক্রির আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি-নির্ভর জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

যদিও ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে কিছু তেল সরবরাহ পুনঃনির্দেশ করতে পেরেছে রিয়াদ, তবুও সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমেছে।

সৌদি সরকারের মোট রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি আসে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি থেকে। ২০২৫ সালে এই খাত থেকে সরকার প্রায় ৬০৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন রিয়াল আয় করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা শুধু সৌদি অর্থনীতিই নয়, পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ সাধারণত এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এ অভিযান শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন