সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইরানের পাল্টা হামলায় বড় ক্ষতি: মার্কিন দাবি প্রশ্নবিদ্ধ—প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ও তার প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ইরানের হামলা বড় কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

তবে সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১টি সামরিক ঘাঁটির ওপর শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আগে স্বীকার করেছে, সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকটি আধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যা পূর্বের সরকারি দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একটি যুদ্ধবিমান হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে—যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বিরল ঘটনা।

অন্যদিকে, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে জানা যায়, সংঘাতে বিপুল সংখ্যক ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে, যার ফলে মজুদ কমে গেছে এবং দ্রুত নতুন সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র হাজারের বেশি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির মূল্য মিলিয়ন ডলারের বেশি। একই সঙ্গে টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রকাশ্যে দেওয়া সরকারি বক্তব্যের বাইরে যুদ্ধের বাস্তব চিত্র আরও গভীর ও জটিল হতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন