সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ফিলিস্তিনি এলাকায় সহিংসতা বাড়লেও নীরবতা—ইসরাইলের ‘দ্বৈত নিরাপত্তা নীতি’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ইসরাইলে সাম্প্রতিক যুব সহিংসতা দমনে কঠোর অভিযান ঘোষণা করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। এক হত্যাকাণ্ডের পর তিনি “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ” চালানোর ঘোষণা দিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন। তবে একই সময়ে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সহিংসতা নিয়ে সরকারের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে।

বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শহর ও গ্রামগুলোতে সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়লেও সেখানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন তথ্যে দেখা গেছে, এসব এলাকায় হত্যার হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সংঘাতপ্রবণ কিছু দেশের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপরীতে ইসরাইলি ইহুদি সমাজে হত্যার হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

সমালোচকদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে যথেষ্ট উপস্থিত নয় এবং অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব এলাকায় অপরাধী চক্র প্রভাব বিস্তার করলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব ও অবকাঠামোগত ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, উন্নয়নমূলক খাতে বিনিয়োগ কম এবং সামাজিক সেবা সীমিত থাকায় এসব এলাকায় অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং একটি কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতিফলন। তারা অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে সেখানে অপরাধ পরিস্থিতিকে অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়, যা সহিংসতা বাড়ার সুযোগ তৈরি করে।

যদিও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন এবং এই দ্বৈত নীতি অব্যাহত থাকলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন