বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

ঢাবিতে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’: বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ‘মিট দ্যা অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক এই আলোচনা সভাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটাং বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, জলবায়ু, বাণিজ্য, মানবাধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কূটনীতি শুধু সরকারি দপ্তর বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের জীবন ও ভবিষ্যৎ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা, মতবিনিময় করা এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক বোধ, সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত পরিমণ্ডলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে দেশের বাস্তব সমস্যা ও জাতীয় প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার সংযোগ আরও জোরদার করতে হবে। তিনি কূটনৈতিক মিশন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের মধ্যে অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে ইইউ শুধু বাজার বা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা, শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার সুযোগ বাড়ানো ইইউর অগ্রাধিকারের অংশ। বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা ও বৃত্তি কর্মসূচির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, নীতিগত স্বচ্ছতা, পূর্বানুমেয়তা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইইউ ইতিবাচকভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন