শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি ভোটাভুটিতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের বিজয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

যা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে

নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ২৭ নম্বর আইন)-এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তার ঘোষণা অনুযায়ী এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২(৬) অনুসারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো।

২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী মির্জা ফখরুল

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পান ২৫৫ ভোট

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট

দুই প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৩৪৩টি ভোট পড়ে। গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে সংসদ কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়।

দুপুর ২টায় শুরু হয় ভোট

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

শুরুর দিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এরপর পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

ভোট গণনা হয় সংসদ কক্ষেই

নির্ধারিত সময় শেষে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে একই স্থানে গণনা শুরু হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গণনা শেষে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ২৫৫ এবং অলি আহমদের পক্ষে ৮৮টি বৈধ ভোট পাওয়া যায়। এরপর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করতে হলো।

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

গত কয়েক দশকে অধিকাংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার দুইজন প্রার্থী থাকায় পূর্ণাঙ্গ ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন।

এখন শপথের অপেক্ষা

নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হলো।

পরবর্তী ধাপে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুলের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন