অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু হচ্ছে ১৮ আগস্ট

সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম (ওভারস্পিড), উল্টোপথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে।

এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হবে আইন লঙ্ঘন

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা আধুনিক এআইসমৃদ্ধ ক্যামেরা যানবাহনের গতি, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

কোনো যানবাহন আইন লঙ্ঘন করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই গাড়ির নিবন্ধন নম্বর শনাক্ত করবে এবং তথ্য সংরক্ষণ করবে। পরে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ

নতুন ব্যবস্থায় আদালত বা থানায় সরাসরি না গিয়েও নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস—যেমন বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এতে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হবে। একই সঙ্গে তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারির মাধ্যমে আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা চালুর ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল কমবে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, উল্টোপথে যান চলাচল ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অংশীজনদের সহযোগিতা চাইল হাইওয়ে পুলিশ

হাইওয়ে পুলিশ যাত্রী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআই ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও একই ধরনের প্রযুক্তি চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন