শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬:
বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় কাজে লাগাতে সরকার আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতনির্ভর, নিয়মভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সরকার।

বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, আর্থিক খাত, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা দেশে আনা সহজ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) ও পরামর্শক সেবার মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসাকে যুক্ত করতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেন।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও প্রয়োজনের বিষয়গুলো নিয়ে সরকার আলোচনা করতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে যারা

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অলিভার সিম্পসন, অ্যাক্সেলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার এবং রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশাপ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।

প্রতিনিধিদলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে।

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন