বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

নতুন সভ্যতার চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ: তথ্যমন্ত্রী

দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে তরুণ সমাজই নতুন সভ্যতার প্রধান চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

‘২০২৬—ডিফরেন্ট কনটেক্সটস, কমন অ্যাসপিরেশনস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে জ্ঞানেও পরিবর্তন প্রয়োজন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি মানবসভ্যতার জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে এমন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে, যার অনেকগুলোই আগের প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ নতুন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আগাম অনুমান করা কঠিন। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, জ্ঞান এখন আর স্থির কোনো বিষয় নয়; প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানের ধরন ও প্রয়োগও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের স্বাভাবিক অভিযোজন ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণদের দক্ষ করে তোলার আহ্বান

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রচলিত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সংকটও যুক্ত হচ্ছে।

তাঁর মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের জন্য আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তবে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো বিশ্বব্যাপী পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তরুণদের কেন্দ্র করে নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের কর্মশক্তি হিসেবে নয়, বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবেও দেখতে হবে।

তরুণদের সক্ষমতায় সরকারের আস্থা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজের সক্ষমতার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ক্রীড়া, সৃজনশীলতা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে তারা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে। এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, ফরেন সার্ভিস একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার যুব প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলোচনায় দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় তরুণদের ভূমিকা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুবসমাজের অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন