বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সাভারে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য আটক, বাড়ি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও ককটেল উদ্ধার

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ওই ভবন থেকে চারটি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর সাভার উপজেলার দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও সাভার মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানে আরিফ হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।

পুলিশ ও অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যার পর ওই ভবনটি ঘিরে ফেলেন সিটিটিসির সদস্যরা। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তল্লাশির সময় একটি কক্ষ থেকে চারটি বোমাসদৃশ বস্তু, বেশ কিছু ককটেল এবং বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।

উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না এবং সেগুলোর ঝুঁকির মাত্রা কতটা, তা পরীক্ষা করে দেখছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। নিরাপত্তার কারণে বিশেষ ব্যবস্থায় বস্তুগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মাইকিং করে পার্শ্ববর্তী অন্তত ২০টি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরো এলাকা কর্ডন করে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের চলাচল সীমিত করা হয়।

অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের ঘটনাস্থলের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিটিটিসির সদস্যরা আটক আরিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হন। তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় ও জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা ঢাকায় যাচ্ছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় জেএমবি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে আটক এবং বেশ কিছু বিস্ফোরকসদৃশ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি জানান, উদ্ধার করা সামগ্রী সিটিটিসির বিশেষজ্ঞরা নিয়ে গেছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নাশকতা বা সহিংস কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া বোমাসদৃশ বস্তু ও ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এসেছে, এগুলো তৈরির সঙ্গে আটক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা কতটা এবং কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন